ওয়েবডেস্ক: হাওড়া সদরের বিজেপি সভাপতি সুরজিত্ সাহাকে বহিষ্কারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ জানিয়ে এবার পদত্যাগ করলেন হাওড়া জেলা সদরের বিজেপি সম্পাদক বিমল প্রসাদ। জেলা রাজনীতিতে বিজেপির হাওড়া জেলা সদরের প্রাক্তন সভাপতি বহিষ্কৃত সুরজিত্ সাহার ঘনিষ্ঠ বিমল প্রসাদ।

তিনি বলেছন, 'আমাদের জেলা সভাপতিকে যেভাবে দোষারোপ করা হয়েছে, মেনে নিতে পারছি না। জেলা সভাপতির প্রতিবাদে আমার সমর্থন রয়েছে।' রাজ্যের বিরোধী দলনেতা সুরজিত্ সাহাকেই সমর্থন করে পদত্যাগ করলেন বলে জানিয়েছেন হাওড়া জেলা সদরের পদত্যাগী সম্পাদক। অবশ্য পদত্যাগী নেতার মন্তব্যকে গুরুত্ব দিতে নারাজ জেলা বিজেপির নতুন আহ্বায়ক মণিমোহন ভট্টাচার্য। নারদা কেলেঙ্কারির প্রসঙ্গ তুলে শুভেন্দু অধিকারীকে তীব্র আক্রমণ করেছিলেন বিজেপির হাওড়া সদর জেলা সংগঠনের সভাপতি সুরজিত্ সাহা। বিস্ফোরক মন্তব্যের মাধ্যমেই সামনে চলে আসে বিজেপিতে আদি-নব্যর লড়াই। বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব অবশ্য অপেক্ষা করেনি। তড়িঘড়ি সুরজিত্কে বহিষ্কার করা হয়।
আরও পড়ুন:ওয়ার্ডভিত্তিক কমিটিই তৈরি হয়নি, পুরভোটের আগেই বাংলায় আসতে পারেন বিজেপি'র কেন্দ্রীয় নেতারা
এই ঘটনায় শুভেন্দু অধিকারীর অস্বস্তি আরও বাড়ল। এর আগে সুরজিত্ অভিযোগ করেন, 'শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন বিজেপি হাওড়া সদরে কোনও সিট জিততে পারেনি। কারণ অরূপ রায়ের সঙ্গে হাওড়া বিজেপির জেলা কমিটির যোগাযোগ ছিল। আমরা বলতে চাই উনি মাত্র ৬ মাস আগে বিজেপিতে এসেছেন। ওঁর কাছে আমরা যারা বছরের পর বছর ধরে বিজেপি করছি, তাদের সার্টিফিকেট নেব না!' শুভেন্দু অধিকারী প্রসঙ্গে হাওড়া বিজেপির শীর্ষ নেতার এই বিস্ফোরক মন্তব্য সামনে আসতেই চরম অস্বস্তিতে পড়ে বিজেপি। আর সেই অস্বস্তি ঢাকতেই সুরজিত্কে বহিষ্কার করা হয়। হাওড়ায় বিজেপি-তে বিতর্কের আবহেই উত্তর ২৪ পরগনার দেগঙ্গাতেও ভাঙন ধরেছে পদ্মশিবিরে। দেগঙ্গা এক নম্বর অঞ্চল থেকে বিজেপি-র ব্লক স্তরের সম্পাদক এবং বুথ সভাপতি-সহ প্রায় ২০০ কর্মী তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। এরই মধ্যে ফের উসকে উঠল বিজেপির অন্দরের বিতর্ক, সৌজন্যে বিমল প্রসাদের পদত্যাগ।