নিউজ ডেস্ক: ভাঙড়ের বিধায়ক তথা ফুরফুরা শরীফের পীরজাদা নওসাদ সিদ্দিকী আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকাঠামোগত উন্নতি ও পরিচরান ব্যবস্থা নিয়ে বৃহস্পতিবার সরব হলেন বিধানসভায় ।
আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তনী নওসাদ সিদ্দিকী বিধানসভায় বলেন , আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রায় ২৪২ বছরের পুরাতন প্রতিষ্ঠান । ১৭৮০ সালে কলকাতার কয়েকজন মুসলমান ব্যক্তির অনুরোধে তৎকালীন ব্রিটিশ গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংস এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনের উদ্যোগ নেন মুসলমান সমাজের ছেলে - মেয়েদের মধ্যে শিক্ষার প্রসার ঘটাতে ।
অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলি যেখানে নানান উন্নতি করছে সেখানে আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গতি থমকে যাওয়ায় রাজ্য সরকারের সমালোচনা করেন করেন নওসাদ । তিনি বলেন , প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয় হল । সেখানে মেন্টর গ্রুপ তৈরি হল । আমরা চাই ওখানে আরো উন্নতি হোক , কিন্তু আলিয়ার কি হল ? এটাও তো ঐতিহ্যশালী প্রতিষ্ঠান , মেন্টর গ্রুপ তো দূরের কথা , একজন ভাইস চ্যান্সেলর পর্যন্ত কয়েকমাস ধরে নিয়োগ হয়নি ।
নওসাদের অভিযোগ , এখনও অবধি বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত অর্থ বরাদ্দ নেই । অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় ন্যাক স্বীকৃতি পেয়েছে , আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ন্যাক স্বীকৃতি পেয়েছে কিনা তা আজও অজানা । আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় সংখ্যালঘু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।তাই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আচার্য হওয়াটা অনৈতিক মনে করেন নওসাদ । তার মতে মুখ্যমন্ত্রী আলিয়া বিশ্ববদ্যিালয়ের মনিটর হতে পারেন , কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী কিভাবে আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আমির - ই - জামিয়া হবেন ? তাহলে কি আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যালঘু প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা হরণ করছেন সেই প্রশ্ন তেলেন নওসাদ ।
নওসাদ বলেন , মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীকে অনুরোধ করব , মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের তদারকি করুন আমির - ই - জামিয়া হয়ে নয় । তাতে বিশ্ববিদ্যালয়েরই মঙ্গল হবে । আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনও বহু কোর্স না পড়ানোয় ক্ষোভ প্রকাশ করেন । তিনি বলেন , পলিটিকাল সায়েন্স থেকে শুরু করে মেডিক্যাল সায়েন্স এখনও অধরা অথচ , এক সময় আলিয়া মাদ্রাসাতে চিকিৎসা শাস্ত্র পড়ানো হত বলে উল্লেখ করেন ভাঙড়ের বিধায়ক নওসাদ ।