নিজস্ব সংবাদদাতা: বৈঠক, হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খুলেও আটকানো গেলো না,দশমীর রাতে ফিরল ডিজের তান্ডব!
দশমীতে দুর্গা বিসর্জনের শোভাযাত্রায় দেদার ডিজে বাজল।
ছবিটা চুঁচুড়া থেকে চন্ডীতলা সর্বত্র একই। পুজোর আগে প্রায় সব বারোয়ারীকে নিয়ে বৈঠক করে পুলিশ প্রশাসন।নিয়ম মেনে পুজো করার নির্দেশের পাশাপাশি জোর দেওয়া হয় ডিজে না বাজানোয়। প্রতিবার পুজোর শোভাযাত্রায় ডিজের তান্ডবে ঘুৃম ছোটে সাধারন মানুষের। ভয়ে কিছু বলতে পারে না কেউ। পুলিশ এবার পুজোর আগে সব বারোয়ারী গুলোকে তাই বারবার করে বলে দিয়েছিল ডিজে বাজানো যাবে না। পুজো কমিটি পুলিশ প্রশাসন পুরসভা দায়িত্ব প্রাপ্তদের নিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খোলা হয়।সেখানে পুজোর সময় যেমন সুবিধা অসুবিধা নিয়ে মতামত দেওয়া হয় তেমনি পুজো কমিটির গুলোর কি কি মানবে তার নির্দেশ দেওয়া হয়। সেইমত পুজোর কটা দিন ভালোই কাটে।
নবমীর দিন চুঁচুড়া থানার আইসি অনুপম চক্রবর্তী ডিজে বাজানো নিয়ে পুজো কমিটি গুলোকে নিষেধের কথা স্মরন করিয়ে দেন। তা সত্ত্বেও তাল কাটল দশমীর রাতে।হুগলি জেলার সদর শহর চুঁচুড়ায় সাত তারিখ হবে কার্নিভাল।সেখানে শহরের ২২ টা বারোয়ারী অংশ নেবে। বাদ বাকি পুজোর বিসর্জন দশমী ও একাদশীর দিন হবে। দশমীর বিকাল থেকে চুঁচুড়ার অন্নপূর্ণা ঘাট,জোরা ঘাট,জগন্নাথ ঘাট,ব্যান্ডেলের চুনুমিঞা ঘাট সহ একাধিক ঘাটে প্রতিমা বিসর্জন শুরু হয়।সন্ধার পর অন্নপূর্ণা ঘাটে বিসর্জনের জন্য নিয়ে যাওয়া হয় একের পর এক প্রতিমা।ছাতাগলির একটি প্রতিমার শোভাযাত্রায় ডিজে বাজিয়ে চলতে থাকে উদ্যাম নৃত্য।
পুলিশ ডিজে আটক করতে গেলে বচসা থেকে ধাক্কা ধাক্কি শুরু হয়।তুমুল গন্ডোগোল বেঁধে যায়।পুলিশ লাঠি পেটা করে ডিজে বক্স সহ তিনজনকে আটক করে।ডিজের ব্যাপারে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না, চন্দননগর পুলিশের পক্ষ থেকে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়ে দেওয়া হয়।নির্দেশ না মেনে ডিজে বাজালে প্রয়োজনে পুজোর অনুমতি বাতিল করা হবে।
অন্যদিকে চন্ডিতলায় পুলিশের নাকের ঢগায় চলে তারেস্বরে বক্স বাজিয়ে বিসর্জন! চন্ডিতলা গ্রামীণ হাসপাতাল ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে একাধিক নার্সিংহোম রয়েছে। রোগীদের কথা তোয়াক্কা না করেই রাতভর চলল লাউড স্পিকারের তান্ডব নির্বিকার প্রশাসন।
যদিও স্থানীয় প্রশাসনের দাবি বিক্ষিপ্ত কয়েকটি পুজো কমিটি লাউডস্পিকার বাজিয়েছে, হাসপাতালের সামনে বক্স বন্ধ রাখার অনুরোধ করা হয়েছে। নির্দেশ না মানলে পুলিশ উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবে।