নিউজ ডেস্ক , চন্ডীতলা, হুগলি : অবৈধ ভাবে শুরু হয়েছে কৃষিজমির মাটি কাটা। কয়েক বছর ধরেই এই অবৈধ কাজ বন্ধ ছিল। কিন্তু বর্তমান সময়ে বেআইনিভাবে মাটি কাটার কাজ আবার ও মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে। ঘটনাটি হুগলির চণ্ডীতলা তীরবর্তী এলাকায় সরকারি আইন না মেনে কৃষিজমি থেকে মাটি কাটার অবৈধ কারবার আবার ও শুরু হয়েছে বলে এমনটাই অভিযোগ । এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে চাষিরা লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন চণ্ডীতলা ১-এর বিডিও, ভূমি দফতর এবং পুলিশে। মূলত, চণ্ডীতলার গঙ্গাধরপুরের কিছু চাষির বক্তব্য , গত ২৮ মার্চ তাঁরা ডাকযোগে মুখ্য পুলিশ-প্রশাসনে অভিযোগ জানান। গত সোমবার বিডিও দীপাঞ্জন জানার সঙ্গে তে দেখা করেও অভিযোগের কথা বলেন কৃষক ভাইয়েরা।বিডিও বলেন, "অভিযোগের যে ভিত্তিতে ব্লক ভূমি দফতরকে অনুসন্ধান করতে বলা হয়েছে। নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে মাটি কাটা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রতিনিয়ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নয়া- নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।"এমন উওপ্ত পরিস্থিতিতে সুর নরম করে তৃণমূল প্রার্থী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "কৃষিজমি থেকে মাটি কাটার বিষয়ে আমাকে কেউ কিছু বলেননি। এ নিয়ে কোনও অভিযোগ আমি পাইনি। এই প্রথম শুনছি। যেই করে থাকুক, তদন্ত করে পুলিশ-প্রশাসন নিশ্চয়ই পদক্ষেপ করবে।"
ফলত, ক্ষোভে ফেটে পড়েছে চাষিরা। তাদের অভিযোগ চাষের জমির অনেক টা গভীর থেকেই সরকারি আইন ছাড়া মাটি কাটা হয়েছে। তারা বলেন ভূমি দফতরের অনুমোদন ছাড়া কীভাবে এ কাজ সম্ভব? বর্ষাকালে অতিরিক্ত জল জমে সেই চাষের জমি পুকুরে পরিণত হবে। তখন সস্তায় সেই জমি বিক্রি করে দিতে হবে এমনটাই দাবি করছে তারা। তখন চাষিদের কান্না শুনবে কে? পরিমল পাখিরা( চাষি) ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমার আট বিঘা জমি। পাশের জমির মাটি কাটা হচ্ছে। এমন ভাবে কাটা হচ্ছে, আমার জমিতে ধস নামবে। প্রতিবাদ করায় হুমকি দিয়ে বলা হয়, সরকারি অনুমতি নিয়ে মাটি কাটা হচ্ছে। আমার প্রশ্ন, সরকার কী ভাবে কৃষিজমির মাটি কাটার অনুমতি দেয়? দিলেও নিয়ম মেনে কাজ হচ্ছে কি না, দেখার কেউ নেই?" সূর্যকান্ত ঘোষাল( চাষি) দাবি করেন, "মিনি ডিপ টিউবওয়েলের বিদ্যুতের তার চুরি করে নিচ্ছে। গরমে ধান চাষ করেছি, জানি না কবে তার চুরি করে নেবে। এই ভাবে চললে আর চাষ করা যাবে না। প্রশাসনের নাকের ডগায় কী ভাবে অনৈতিক কাজ হয়?"
অভিযোগ উঠছে এই ব্লকের নবাবপুর, ভগবতীপুর, আইয়াতেও, একই পদ্ধতিতে মাটি কাটা হয়। সারা রাত ধরে চলে মাটি কাটার কাজ। তারপর সেই মাটি ডাম্পার, ট্রাক্টর বোঝাই করে অহল্যাবাই রোড ধরে বিভিন্ন ইটভাটা-সহ বিভিন্ন জায়গায় সেই মাটি চলে যায়। ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনের শ্রীরামপুরের বিজেপি প্রার্থী কবীরশঙ্কর বসুর দাবি, "শুধু চণ্ডীতলা নয়, প্রতি পঞ্চায়েত এলাকায় মাটি কাটা, পুকুর ভরাট, জমি দখল হচ্ছে। জমি দখলের সিন্ডিকেট চলছে।" পাশাপাশি শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ কল্যান বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপিকে কটাক্ষ করে বলেন, "ভোট এসেছে বলে ওরা গল্প তৈরি করছে। ভোট ঘোষণার আগে তো এ সব বলেনি!"