Kapil Sharma show: কবিগুরুর ‘একলা চলো রে’ গানটির ব্যঙ্গাত্মক অঙ্গভঙ্গিতে প্রতিবাদ জানান শ্রীজাত থেকে লগ্নজিতা



নিউজ ডেস্ক:  ‘দি গ্রেট ইন্ডিয়ান কপিল শো’ দর্শকদের কাছে খুব জনপ্রিয় একটা শো । বেশ কয়েক বছর ধরে চলে আসছে । মজাদার কনটেন্ট এবং কমেডিয়ান কপিল শর্মা সঞ্চালনার স্টাইলে মুগ্ধ অনুরাগীরা ।কিন্তু কি এমন ঘটল যার জন্য রোষের  মুখে পড়তে হল” দি গ্রেট ইন্ডিয়ান কপিল শো “ কে? বাংলা ভাষার সংস্কৃতি অর্থাৎ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে অপমান ! শো চলাকালীন একটি নতুন পর্ব সংযোজিত হচ্ছিল আর সেখানেই উপস্থিত ছিলেন অভিনেত্রী কাজল এবং কৃতি সানন ।সেই পর্বেরই মাঝ বরাবর এই শো র এক সহকারী শিল্পী কৌতুক অভিনেতা ক্রুষা অভিষেক হাজির হন এবং সম্ভবত কাজলকে বাঙালি বংশদূত হিসেবে পেয়েই রবীন্দ্রনাথের একটি গান কে মশকরার সরঞ্জাম হিসেবে বেছে নেন অর্থাৎ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের “একলা চলো রে “ গানটি নিয়ে ক্রুষা অভিষেক ব্যঙ্গাত্মক অঙ্গী ভঙ্গি  করেন এবং কথাবার্তার উদ্বেগ তৈরি করে যা গানটির সম্মান এবং শীলতার  মাত্রা ছাড়িয়ে বহুদূর চলে গেছে। এই পুরো বিষয়টিকে কেন্দ্র করে রেগে আগুন “দি গ্রেট ইন্ডিয়ান কপিল শো” এর বাঙালি অনুরাগীরা ।ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে ইমন চক্রবর্তী থেকে শুরু করে লগ্নজিতা এমনকি শ্রীজাত থেকে শুরু করে সুরকার ও পরিচালক ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত পর্যন্ত প্রতিবাদ জানাতে শুরু করে।




ইমন চক্রবর্তীর কথায়, “আমাদের জাতীয় সঙ্গীত যিনি বানিয়েছেন। আমি জানি না, আমার জ্ঞানত মনে হয় না, কোনও দেশের যিনি জাতীয় সঙ্গীত বানিয়েছেন, তাঁকে নিয়ে সেই দেশের নাগরিকের ঠাট্টা, সেই দেশের মানুষ তাঁর কাজ নিয়ে কোনও মস্করা করতে পারে কিনা। এটা পৃথিবীর অন্য়কোনও দেশে সম্ভব কিনা। দুর্ভাগ্যবশত আমাদের দেশে সম্ভব হয়েছে।“



প্রতিবাদের ভাষায় লগ্নজিতা বলেন , ''আমি কপিল শর্মার শো দেখি না। শ্রীজাতদার পোস্টও দেখিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটু কম করা হয় বলে, তবে রবীন্দ্রনাথের গান নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট হতেই থাকে। কিন্তু, সেটা নিয়ে যদি কেউ ব্যঙ্গ করেন তবে আমিও প্রতিবাদ জানাতে বাধ্য হব। রবীন্দ্রনাথ তো শুধু বাঙালির নয়, গোটা জাতীর গর্ব। তাই এই ভাবে কারও সৃষ্টি নিয়ে ঠাট্টা করা যায় না।''



ক্ষুব্ধ শ্রীজাত লেখেন, ‘এইবার রংটা একটু বেশি চড়ে গেছে, তাই লিখছি। বহুবার টেলিভিশনের জন্য নানা অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেছি, তাই জানি, পর্দায় একজন শিল্পী বা সঞ্চালক যা যা বলেন, তার সবটাই যে তাঁর নিজের মস্তিস্কপ্রসূত কথা, এমনটা নয়। একটা ছোটখাটো অনুষ্ঠানেও স্ক্রিপ্ট তৈরি ক’রে দেবার জন্য একাধিক লেখকের দল থাকে, সেই চিত্রনাট্য অনুযায়ী অনুষ্ঠানের চলন সাজানো হয়, সঞ্চালক বা শিল্পীদের কথার বেশ কিছু অংশও সেই সাজানো স্ক্রিপ্টের আওতায় পড়ে। টেলিভিশনের পর্দা থেকে কিছুদিন আগে কপিল শর্মা তাঁর শো-টি NETFLIX-এ নিয়ে গেছেন, আপাতত শতাধিক দেশে যার সম্প্রচার হয় এবং ট্রেন্ডিং অনুযায়ী ভারতে প্রযোজিত ১ নম্বর শো এই মুহূর্তে এটিই। এই যখন তার বহর, আমি নিশ্চিত এই শো-এর চিত্রনাট্য লেখার জন্য নির্দিষ্ট লেখকরা আছেন এবং নিঃসন্দেহে কপিল শর্মারও সে-বিষয়ে বক্তব্য, সংযোজন ও সম্মতি আছে। তাই যদি ধ’রে নিই, তাহলে বলতে হয়, এঁরা সম্প্রতি জেনে বা না-জেনে একটি অন্যায় করেছেন। ভুল নয়, অন্যায়। আমি স্পষ্ট ভাষায় তার বিরোধিতা করার জন্য প্রাথমিক ভাবে এই লেখাটি লিখছি।’



তিনি আরও লেখেন , ‘কৌতুক আর তামাশা’র মধ্যে একটা সূক্ষ্ম রেখা আছে, সেটা ঝাপসা হয়ে এলেই বিপদ। কী বলছি, কাকে নিয়ে বলছি, কতটুকু বলছি, এসব না-ভেবে কেবল লোক-হাসানো TRP-র জন্য নিবেদিতপ্রাণ হতে হতে মানুষ এক সময়ে নিজের সীমা বিস্মৃত হয়। তখন তাকে মনে করিয়ে দিতে হয়, এই চৌকাঠ পেরনো তোমার উচিত হয়নি। আমি সেটুকুই করছি। বাঙালি মনীষীদের নাম বা কাজ নিয়ে ইচ্ছেমতো হাসিঠাট্টা করাই যায়, ভারতের অন্যান্য অংশের কিছু বাসিন্দাদের এমনটাই ধারণা। বাংলা ভাষা থেকে সংস্কৃতি, সবটাই তাঁদের কাছে খোরাক। ঠিক যে-কারণে অমোঘ লীলা দাস বিবেকানন্দকে নিয়ে মস্করা করার স্পর্ধা পান। পরে বিরোধের স্বর চড়লে ক্ষমা চাইতে বাধ্য হন। কিন্তু ভারতের নানা অংশে ঘুরে দেখেছি, বাঙালিদের সবকিছু নিয়ে একটু ঠাট্টা-ইয়ার্কি অনেকেরই মজ্জাগত।’

Monisha Roy

মনীষা রায়। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনামূলক সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ছাএী।পরবর্তীতে জার্নালিজম নিয়ে পড়াশোনা ।দেশভাগের সাহিত্য আলোচনা।মাঝেমধ্যে একটু আকিবুকি কাটা পাশাপাশি ছন্দ মিলিয়ে কবিতা লেখা।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Please Type Your Valuable Feedback.
Keep Supporting. Flow as on YouTube & Facebook.

নবীনতর পূর্বতন