গাজায় ইসরাইলি হামলার প্রতিবাদে আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

সেখ জাবিহুল্লাহ : কোলকাতা: বিশ্বজুড়ে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি হামলার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ঢেউ উঠেছে। এরই অংশ হিসেবে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা গাজায় ইসরাইলি বর্বরোচিত হামলার নিন্দা জানিয়ে এক প্রতিবাদ কর্মসূচি আয়োজন করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের তালতলা ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত এই বিক্ষোভে ছাত্র-ছাত্রীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ দেখা যায়।



বিক্ষোভের পটভূমি

সম্প্রতি ইসরাইল গাজার সাধারণ জনগণের ওপর লাগাতার বোমা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এতে নারী, শিশু, বৃদ্ধসহ বহু নিরীহ মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে। হাসপাতাল, স্কুল, এমনকি শরণার্থী শিবিরেও নির্বিচারে হামলা চালানো হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপ থাকা সত্ত্বেও ইসরাইল তার সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে, যা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।

এই বর্বরোচিত হামলার প্রতিবাদে বিশ্বব্যাপী মানুষ নেমেছে রাজপথে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা সোচ্চার হয়েছে ফিলিস্তিনের পক্ষে। আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও এই আন্দোলনে নিজেদের যুক্ত করেছেন এবং গাজার নির্যাতিত জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন।




প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার হাতে নিয়ে মানবতার পক্ষে শ্লোগান দেয়। তাদের ব্যানারে লেখা ছিল—

"ফিলিস্তিনের জন্য ন্যায়বিচার চাই"

"গাজার শিশু হত্যা বন্ধ কর"

"ইসরাইলি আগ্রাসন বন্ধ কর"

"মানবতা রক্ষার সময় এখনই"


এক শিক্ষার্থী বলেন, "আমরা নীরবে এই হত্যাযজ্ঞ দেখতে পারি না। ইসরাইল দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিনিদের ওপর যে দমন-পীড়ন চালিয়ে আসছে, তা মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। আমরা চাই, বিশ্ব সম্প্রদায় এ বিষয়ে জোরালো পদক্ষেপ নিক এবং ইসরাইলের অন্যায় আক্রমণ বন্ধ করুক।"



আরেকজন বিক্ষোভকারী জানান, "আজ ফিলিস্তিন আক্রান্ত, কাল অন্য কেউ আক্রান্ত হতে পারে। আমরা ন্যায়ের পক্ষে, মানবতার পক্ষে। ফিলিস্তিনের মানুষের প্রতি আমাদের সমর্থন থাকবে চিরদিন।"

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ ও বিক্ষোভের প্রতিক্রিয়া

বিক্ষোভে অংশ নেয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এবং ছাত্রী উভয়েই। অনেক শিক্ষার্থী হিজাব ও নিকাব পরে প্রতিবাদে যোগ দেন। তাদের হাতে থাকা পোস্টারে স্পষ্টভাবে ইসরাইলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ পেয়েছে।

আন্দোলনকারীদের দাবি, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এখনই কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। ইসরাইলের এই নিপীড়ন বন্ধে জাতিসংঘ, ওআইসি, আরব লিগসহ সব আন্তর্জাতিক সংগঠনকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

বিক্ষোভের সময় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় ছিল এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো বাধা দেয়নি। তবে শিক্ষার্থীরা জানান, তারা চায় এই আন্দোলন শুধু আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে সীমাবদ্ধ না থেকে সারা ভারতে ছড়িয়ে পড়ুক এবং মুসলিম বিশ্ব একত্র হয়ে ফিলিস্তিনিদের পক্ষে আরও কার্যকর ভূমিকা গ্রহণ করুক।



আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা

বিশ্বব্যাপী অনেক দেশই ইসরাইলের হামলার নিন্দা জানিয়েছে, কিন্তু তা যথেষ্ট নয়। শিক্ষার্থীদের মতে, শুধু নিন্দা প্রকাশ নয়, কার্যকর পদক্ষেপও নিতে হবে। তাদের দাবি—

1. ইসরাইলের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে হবে।


2. ফিলিস্তিনের জনগণের জন্য জরুরি ত্রাণ সহায়তা পাঠাতে হবে।


3. আন্তর্জাতিক আদালতে ইসরাইলের যুদ্ধাপরাধের বিচার করতে হবে।


4. মুসলিম দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ইসরাইলের বিরুদ্ধে চাপ সৃষ্টি করতে হবে।



শেষ কথা

আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এই বিক্ষোভ প্রমাণ করে যে, বিশ্বজুড়ে মানুষ ফিলিস্তিনের পক্ষে দাঁড়াচ্ছে। অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের কণ্ঠ সবচেয়ে শক্তিশালী। তারা তাদের মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই গাজার নিরীহ জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং ইসরাইলি হামলার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে।

এই প্রতিবাদ কেবল একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়বে—এটাই সবার প্রত্যাশা।









একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Please Type Your Valuable Feedback.
Keep Supporting. Flow as on YouTube & Facebook.

নবীনতর পূর্বতন