হুগলি জেলায় নাবালিকা নিখোঁজ: উদ্বেগজনক পরিস্থিতি

মূল বিষয়সমূহ:

৮০০-এর বেশি নাবালিকা নিখোঁজ: গত এক বছরে শুধুমাত্র হুগলি জেলা থেকেই ৮০০-এর বেশি নাবালিকা নিখোঁজ হয়েছে।
স্মার্টফোন ব্যবহারের নেতিবাচক প্রভাব: নাবালিকাদের মধ্যে স্মার্টফোন ব্যবহারের কারণে অপরিচিতদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ওঠার প্রবণতা বাড়ছে, যা নিখোঁজ হওয়ার অন্যতম কারণ।
বাল্যবিবাহের প্রবণতা বৃদ্ধি: বিশেষত আরামবাগ মহকুমায় স্কুলপড়ুয়া মেয়েদের মধ্যে বাল্যবিবাহের হার আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
প্রশাসনের সচেতনতা উদ্যোগ: জেলা প্রশাসন সচেতনতা শিবিরের আয়োজন করছে এবং স্কুল পর্যায়ে বিশেষ পাঠ্যক্রম চালু করার পরিকল্পনা করছে।
নিখোঁজ কিশোরীদের পাচারের শিকার হওয়ার আশঙ্কা: অনেক নিখোঁজ নাবালিকাকে ভিন রাজ্যে পাচার করা হচ্ছে, যা তাদের জীবনে ভয়াবহ বিপদ ডেকে আনছে।
অভিভাবকদের কঠোর নজরদারির আহ্বান: অভিভাবকদের সন্তানের স্মার্টফোন ব্যবহারের ওপর কঠোর নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কঠোর আইনি পদক্ষেপ প্রয়োজন: পুলিশ ও প্রশাসনকে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে, প্রয়োজনে অভিভাবকদের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

জাতীয় মহিলা কমিশনের সদস্য অর্চনা মজুমদার।


হুগলি জেলায় নাবালিকা নিখোঁজের ভয়াবহ চিত্র

হুগলি জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে নাবালিকাদের নিখোঁজ হওয়ার হার উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। জাতীয় মহিলা কমিশনের সদস্য অর্চনা মজুমদারের দেওয়া তথ্য অনুসারে, গত এক বছরে এই জেলার ৮০০-এর বেশি নাবালিকা নিখোঁজ হয়েছে। এই তথ্য সামনে আসতেই ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

স্মার্টফোন ব্যবহারের কারণে বিপদ বাড়ছে

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নাবালিকাদের মধ্যে স্মার্টফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার তাদের অপরিচিত ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরিতে সহায়তা করছে, যা নিখোঁজ হওয়ার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, বাড়ির সদস্যদের মিথ্যে কথা বলে কিশোরী ও যুবতীরা প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে যাচ্ছে, এবং এই তালিকায় বহু নাবালিকাও রয়েছে। এই প্রবণতা রোধ করতে অভিভাবকদের আরও কঠোর হতে হবে এবং সন্তানের মোবাইল ব্যবহারের ওপর কড়া নজরদারি করতে হবে।

বাল্যবিবাহের প্রবণতা বৃদ্ধি: বিশেষ করে আরামবাগে

হুগলি জেলার মধ্যে বিশেষ করে আরামবাগ মহকুমায় স্কুলপড়ুয়া মেয়েদের মধ্যে বাল্যবিবাহের প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জেলা প্রশাসন সচেতনতা শিবির আয়োজন করছে। পাশাপাশি, স্কুলগুলিতে বিশেষ পাঠ্যক্রম চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে যাতে শিক্ষার্থীদের বাল্যবিবাহের কুফল সম্পর্কে সচেতন করা যায়।

নিখোঁজ নাবালিকাদের ভয়াবহ পরিণতি

জাতীয় মহিলা কমিশনের তথ্য অনুসারে, নিখোঁজ হয়ে যাওয়া নাবালিকাদের মধ্যে অনেককেই ভিন রাজ্যে পাচার করা হচ্ছে। এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে প্রশাসনকে আরও কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন অর্চনা মজুমদার। তিনি বলেন, “অভিভাবকদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে এবং প্রয়োজনে তাদের জেল হতে পারে।”

প্রশাসনের জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজন

এই সংকট নিরসনে প্রশাসনকে নিম্নলিখিত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে:
📌 সচেতনতা বৃদ্ধি: গ্রামীণ এলাকাগুলিতে সচেতনতা শিবিরের সংখ্যা বাড়ানো।
📌 শিক্ষামূলক কার্যক্রম: স্কুল পর্যায়ে বিশেষ পাঠ্যক্রম চালু করা।
📌 আইনি পদক্ষেপ: নিখোঁজ কিশোরীদের সন্ধান ও পাচার প্রতিরোধে কঠোর পুলিশি ব্যবস্থা নেওয়া।
📌 অভিভাবকদের দায়িত্ব: সন্তানদের মোবাইল ব্যবহারের ওপর কড়া নজর রাখা এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

উপসংহার

হুগলি জেলার নাবালিকা নিখোঁজের এই উদ্বেগজনক প্রবণতা প্রতিরোধে প্রশাসন, অভিভাবক, শিক্ষক ও পুলিশকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। নাবালিকাদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত রাখতে শুধু প্রশাসনের নয়, সমাজের প্রতিটি স্তরের সক্রিয় সহযোগিতা প্রয়োজন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Please Type Your Valuable Feedback.
Keep Supporting. Flow as on YouTube & Facebook.

নবীনতর পূর্বতন