🔹 বিরাট খবর! ভোটের আগে বড় বিপাকে শাসক দল
🔹 বর্ধমান আদালতের নির্দেশে পুলিশের হাতে বন্দি ১৩ তৃণমূল নেতা-নেত্রী!
🔹 ২০১৭ সালের গোষ্ঠী সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ
🔹 আজ মঙ্গলবার মামলার চূড়ান্ত সাজা ঘোষণা করবে আদালত
আদালতের চাঞ্চল্যকর রায়, বিপাকে তৃণমূল শিবির
পূর্ব বর্ধমানের তৃণমূল কংগ্রেসের গোষ্ঠী সংঘর্ষের একটি পুরনো মামলায় নজিরবিহীন রায় দিল আদালত। সোমবার বর্ধমান ফাস্ট ট্র্যাক সেকেন্ড কোর্টের বিচারক অরবিন্দ মিশ্র ১৩ জন তৃণমূল নেতা-নেত্রীকে পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন। এই রায়ের ফলে ভোটের আগে বড়সড় সংকটে পড়ল শাসক শিবির।
আদালতের নির্দেশে হেফাজতে যাওয়া নেতাদের মধ্যে রয়েছেন— বর্ধমান উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান কাকলী তা গুপ্ত, তৃণমূলের যুব নেতা ও পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ মানস ভট্টাচার্য, অঞ্চল সভাপতি শেখ জামাল এবং রায়ান গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান কার্তিক বাগ সহ আরও বেশ কয়েকজন তৃণমূল নেতা।
এই রায়ের খবর ছড়িয়ে পড়তেই সোমবার বিকেলে বর্ধমান আদালত চত্বরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। মঙ্গলবার এই মামলার চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করবে আদালত।
কী ঘটেছিল ২০১৭ সালে?
২০১৭ সালের ৫ সেপ্টেম্বর পূর্ব বর্ধমানের নাড়ীগ্রাম দাসপাড়ায় তৃণমূল কংগ্রেসের গোষ্ঠী সংঘর্ষে আহত হন তৎকালীন তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্য জীবন পালের বাবা দেবু পাল। অভিযোগ, শাসকদলের নেতারা তাঁর ওপর আক্রমণ চালিয়ে তাঁর চোখ নষ্ট করে দেন। পরদিন, ৬ সেপ্টেম্বর, দেবু পালের স্ত্রী সন্ধ্যারাণী পাল বর্ধমান থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
বছরের পর বছর মামলা চলার পর অবশেষে আদালত গতকাল ১৩ জন তৃণমূল নেতাকে পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তবে এই মামলায় দু’জন বেকসুর খালাস পেয়েছেন।
আইনজীবীদের প্রতিক্রিয়া
সরকারি আইনজীবী হরিদাস মুখোপাধ্যায় আদালতের নির্দেশকে সমর্থন জানিয়ে বলেন, “পর্যাপ্ত প্রমাণের ভিত্তিতেই এই রায় দেওয়া হয়েছে। আদালত তাদের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে।”
অন্যদিকে, অভিযুক্ত পক্ষের আইনজীবীরা রায়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। আইনজীবী বিশ্বজিৎ দাস ও কমল দত্ত বলেন, “এই মামলায় তেমন কোনো সাক্ষ্যপ্রমাণ নেই। তবুও আদালত কীভাবে এই রায় দিলেন, তা অবাক করার মতো! আমরা হাইকোর্টে আপিল করব।”
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা মুখপাত্র প্রসেনজিৎ দাস বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য এড়িয়ে যান। তিনি বলেন, “আদালতের বিষয়, না জেনে কিছু বলা সম্ভব নয়।”
বিজেপির জেলা সহ-সভাপতি মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র এই রায়ের কড়া সমালোচনা করে বলেন, “নিজেদের গোষ্ঠী কোন্দলেই এখন বন্দি তৃণমূলের তাবড় নেতা-নেত্রীরা। এর থেকে লজ্জার আর কী হতে পারে?”
আজ কী হবে?
মঙ্গলবার আদালত এই মামলার চূড়ান্ত সাজা ঘোষণা করবে। এই রায়ে তৃণমূল নেতাদের ভবিষ্যৎ কোন পথে মোড় নেয়, তা দেখার অপেক্ষায় রাজনৈতিক মহল।