- হাইলাইটস:
- নয়া ওয়াকফ সংশোধনী বিল ২০২৫ বুধবার লোকসভায় পেশ, বৃহস্পতিবার রাজ্যসভায় উত্থাপন হবে।
- বিরোধীদের দাবি, বিলটি ধর্মনিরপেক্ষতার ভিত্তিকে আঘাত করছে এবং ইসলামিক সম্পত্তি দখলের আশঙ্কা তৈরি করছে।
- সরকারের যুক্তি, এই বিল সাধারণ মুসলিমদের উপকৃত করবে এবং ওয়াকফ বোর্ডের অনিয়ম রোধ করবে।
- নতুন বিলে ওয়াকফ বোর্ডের অধিকার খর্ব করে বিতর্কিত সম্পত্তির মালিকানা নির্ধারণের ক্ষমতা জেলাশাসকের হাতে দেওয়া হয়েছে।
- ওয়াকফ বোর্ডে দুই অমুসলিম সদস্যের অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাবে বিরোধিতা।
ওয়াকফ কী? ওয়াকফ শব্দটি আরবি থেকে এসেছে, যার অর্থ স্থগিত করা বা নিবৃত্ত রাখা। ইসলামি শরিয়তের মতে, কোনো ব্যক্তি তার সম্পত্তি আল্লাহর উদ্দেশ্যে জনকল্যাণমূলক কাজে উৎসর্গ করলে তাকে ওয়াকফ বলা হয়। ১৯১৩ সালের আইন অনুযায়ী, এটি ধর্মীয়, পবিত্র বা সেবামূলক কাজে স্থায়ীভাবে উৎসর্গ করা সম্পত্তি।
ওয়াকফ বোর্ড ও এর কার্যাবলী ওয়াকফ সম্পত্তির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য সুলতানি আমল থেকেই বোর্ডের প্রচলন হয়। স্বাধীন ভারতে ১৯৫৪ সালে ওয়াকফ আইন পাশ হয় এবং ১৯৯৫ ও ২০১৩ সালে সংশোধন করা হয়। বোর্ডের মূল কাজ হলো ওয়াকফ সম্পত্তির রক্ষণাবেক্ষণ এবং সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
নয়া সংশোধনী বিলে কী পরিবর্তন আনা হয়েছে? ১. বিতর্কিত সম্পত্তির মালিকানা নির্ধারণের ক্ষমতা ওয়াকফ বোর্ডের বদলে জেলা প্রশাসকের হাতে তুলে দেওয়া। ২. ওয়াকফ বোর্ডে দুইজন অমুসলিম সদস্যের অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব। ৩. কেন্দ্রীয় পোর্টালের মাধ্যমে ওয়াকফ সম্পত্তির নথিভুক্তিকরণ নিয়ন্ত্রণের প্রস্তাব। ৪. সম্পত্তি ওয়াকফ হিসেবে ঘোষণার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ। ৫. ইসলামিক ধর্মস্থানের ব্যক্তিগত মালিকানা দাবি করার সুযোগ।
বিরোধীদের আপত্তি ও বিতর্ক বিরোধী শিবিরের দাবি, এই বিল সংখ্যালঘুদের সম্পত্তি দখল এবং ধর্মনিরপেক্ষতার ভিত্তিকে আঘাত করবে। ওয়াকফ বোর্ডে অমুসলিমদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়েও তীব্র আপত্তি।
ওয়াকফ কত প্রকার? ১. ওয়াকফ ফি লিল্লাহ: ধর্মীয় বা দাতব্য উদ্দেশ্যে। ২. ওয়াকফ আলাল আওলাদ: পারিবারিক বা ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যে। ৩. মিশ্র ওয়াকফ: ধর্মীয় এবং পারিবারিক উদ্দেশ্যে।
দেশজুড়ে ওয়াকফ সম্পত্তি ভারতে ওয়াকফ বোর্ড ৮.৭ লক্ষ সম্পত্তির ৯.৪ লক্ষ একর জমি নিয়ন্ত্রণ করে, যার আনুমানিক মূল্য ১.২ লক্ষ কোটি টাকা। ভারতীয় রেলওয়ে ও সশস্ত্র বাহিনীর পর এটি দেশের তৃতীয় বৃহত্তম জমির মালিক।